Assertion For Justice, Equality And Freedom.

Wednesday, October 1, 2014

নারীর বিরুদ্ধে জিঘাংসা, ঠেকাতে প্রয়োজন সচেতন শিক্ষা ব্যাবস্থা

প্রতিদিন প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের কোন না কোন অংশ জুড়ে নারী নির্যাতনের যে ঘটনা গুলি দেখা যায়, তা থেকে এটুকু প্রতীয়মান হয়; ঘটনাগুলি ঘটতেই থাকবে,  আর দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের আনাচে কানাচে কিশোরী থেকে শুরু করে প্রত্যেক বয়সের নারীরা কোন না কোনভাবে নির্যাতনের শিকার হতেই থাকবে। আর দেশের সচেতন নাগরিকেরা নানাভাবে তাদের প্রতিবাদ ব্যক্ত করতে থাকবেন। জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠান গুলি নারী নির্যাতন বিষয়ে বিভিন্ন রকমের গুরুত্তপুর্ন কার্যাবলী সম্পাদন করছেন, যেগুলি প্রশংসার দাবীদার।

 বাস্তব চিত্র কি বলে? নারী নির্যাতন কি প্রকৃত অর্থে কমছে? মোটেই তা নয়। মোবাইল, ইন্টারনেটের এই ভয়াল যুগে যেখানে খুব সহজেই প্রাপ্ত যৌনতার নোংরা ছবি দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা তরুন সমাজকে নানাভাবে আকর্ষিত করছে ও তাদের মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটাচ্ছে, সেখানে আবেগ-বিবেক, প্রকৃত ভালোবাসার প্রতি শ্রদ্ধাবোধ এবং জবাবদিহিতা ইত্যাদি বিষয়গুলিত দিন দিন যেন বিলুপ্তির পথেই পা বাড়াচ্ছে। তাই শয়তানি শক্তির প্রভাবে নারী নির্যাতন আগের চাইতে আরও ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করছে। নারীরা কোথাও নিরাপদ নয়। তরুন সমাজের কাছে নারী মানেই যৌণ চাহিদা মেটানোর ভোগ্যপন্য, আইটেম, শরীরের গঠন ও আকৃতি, অপবাদিণী, কলংকিনী এবং আরো ইত্যাদি ইত্যাদি। তাই আজকালকের যুগের কিশোর-তরুনেরা স্থান-কাল-বয়স চোখে দেখেনা আর বিবেচনাও করেনা। পুরুষের বয়স পঞ্চাশ হলেই কি আর নারীর বয়স বারো হলেও সমস্যা নেই। অথচ বারো বছরের একটা কিশোরী মেয়ে জীবন সম্পর্কে কি ই বা শিক্ষা লাভ করেছে?

এভাবে আর চলতে দেয়া যায়না। ধর্ষনের মতো জঘন্য পাপাচারগুলি সংঘটিত হবার পর সংবাদ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলি ধর্ষিতার বিচার ও ক্ষতিপুরনের জন্য নানা রকমের প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়ে থাকে। কিন্তু ঘটনা ঘটার পুর্বেই তার প্রতিকার মুলক ব্যবস্থা নেয়া উত্তম, যাতে করে এই সমস্ত ঘটনা ঘটার সুযোগই না হয়। এইজন্য যেই পদক্ষেপগুলি বেশি করে নেয়া প্রয়োজন, সেগুলির মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্তপুর্ন পদক্ষেপ হলো, তরুন সমাজের ভিতরে সমাজিক ভাবে সচেতনতা তৈরীর জন্য যত রকমের ব্যবস্থা নেয়া যায়, সব রকমের কার্যক্রম গ্রহন করা।

গ্রামে-গঞ্জে বসবাস করা দরিদ্র ঘরের অশিক্ষিত অথবা অর্ধশিক্ষিত একটি ছেলে যেমনি করে জীবনের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে বাস করে, তেমনি করে শহরে থাকা তথাকথিত আধুনিক বাবা-মায়েরা তাদের আদরের ছেলেকে জীবনের সমস্ত চাহিদাগুলি মেটানোর সাথে সাথে সত্ত্যিকারের প্রকৃত শিক্ষা দিতে পারছেন কি না, আজকের এই অস্থির-যান্ত্রিক যুগে এই কথাটিও প্রশ্নবিদ্ধ। নারীরা এখন আর ঘরে বসে থাকতে পারেননা। জীবনের তাগিদে তাকেও পুরুষের মতো ঘরের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হয়। কারন ঘুরে ফিরে সেইটাই, পুরুষের উপর তারা পুরোপুরি ভাবে ভরসা করতে পারছেননা। এই দিকে তাদের সন্তান একা একা ঘরে বসে কি করছে, তার খবর রাখার সময় কোথায় তাদের? এখন গোড়ায় হাত দিলেই তো সমস্যা। নারী-পুরুষেরা কেন একে অপরকে বিশ্বাস করতে পারছেননা!? মুল্যবোধ ও জবাবদিহীতার অভাব কেন এবং কোথায়? 

সবশেষে এটুকুই বলতে হয়, শিকড় থেকে সত্যিকারের আধুনিক ও সচেতন শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা ছাড়া আর কোন বিকল্প পথ খোলা নেই। তাই দেশের প্রতিটি অঞ্চলের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির পাশাপাশি নতুন নতুন পর্যায়ের আধুনিক মানের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কিশোর-তরুন কমিউনিটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা একান্ত প্রয়োজন, যেখানে কিশোর ও তরুন সমােজের ছেলে-মেয়েরা প্রকৃত অর্থে মানুষের প্রতি মানুষের মূল্যবোধ তথা নারীর প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, জবাবদিহীতা এবং নিজের জীবনের সম্মান ও প্রয়োজন রক্ষা করে চলতে পারবে। কারন, অপরাধ যখন সংঘটিত হয়, তখন এক পক্ষ সাথে সাথেই ক্ষতিগ্রস্ত হয় আর অপর পক্ষ হয় তার কিছু সময় পরে, যখন সে ধরা পরে যায়। পরবর্তী অপরাধ সংঘটির হবার আগেই দেশ ও মানুষের কল্যানে এখনই প্রয়োজন যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহন করার।

নীচে আমাদের পুরনো আমলের ঘুনে ধরা সমাজ ব্যবস্থার ছোট একটি চিত্র তুলে ধরা হলো, যা দেখলে দুঃখই হয়ঃ 

ধর্ষণের শাস্তি দুই লাখ টাকা জরিমানা !
নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সালিসের মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ওই টাকা দেওয়ার জন্য ১৫ দিনের সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি জানলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। গত রোববার ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। মেয়েটির পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার সকালে ষষ্ঠ শ্রেণির ওই ছাত্রী বিদ্যালয়ে যাচ্ছিল। পথে উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধোপাদহ গ্রামের বাসিন্দা নাফিস খান (২২) মেয়েটিকে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে পাশের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করেন। ঘটনাটি স্থানীয় কয়েকজন দেখে নাফিসকে আটক করেন। পরে তাঁকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্য দেলোয়ার হোসেনের জিম্মায় দেওয়া হয়।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, নাফিস ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। ওই রাতেই ধোপাদহ গ্রামে নাফিসের চাচা লুৎফর রহমানের বাড়িতে সালিস হয়। সেখানে নাফিসকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। ওই সালিসে কাশিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। মতিয়ার রহমান বলেন, জরিমানার টাকা ১৫ দিনের মধ্যে মেয়েপক্ষকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। মেয়ের দিনমজুর বাবা বলেন, ‘টাকা এখনো পাইনি। আদৌ পাব কি না, তা নিয়ে সন্দেহ আছে। সালিসকে সম্মান করে থানায় অভিযোগ করিনি।’ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুভাষ বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনাটি জানি। তবে কেউ অভিযোগ দেয়নি বলে খোঁজখবর নিইনি। ধর্ষণের ঘটনায় মামলা ছাড়া বিচার করা যায় না।’

Maksuda
Date: 01-10-2014.


তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো, বাংলাদেশ

Tuesday, August 26, 2014

আত্মহত্যার ভয়ংকর পরিণতি

ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ ও অত্যন্ত ঘৃণ্য কাজ হওয়া সত্ত্বেও এমন অনেক লোক আছে, যারা জীবনযাপনের কঠিন দুঃখ-দুর্দশা ও ব্যর্থতার গ্লানি থেকে পরিত্রাণের জন্য অথবা জেদের বশবর্তী হয়ে বেছে নেয় আত্মহননের পথ। কিন্তু ধৈর্য ধারণ করে আল্লাহর ওপর ভরসা ও দৃঢ় আস্থা থাকলে কারও আত্মহত্যার মতো ক্লেশকর পথে পা বাড়াতে হয় না। আত্মহত্যা থেকে বিরত থাকতে আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে নির্দেশ দিয়েছেন এবং আত্মহত্যার পরিণামে কঠোর শাস্তির বর্ণনা দিয়ে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা নিজেদের হত্যা কোরো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু এবং যে কেউ সীমা লঙ্ঘন করে অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, তাকে অগ্নিতে দগ্ধ করব; এটা আল্লাহর পক্ষে সহজ।’ (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ২৯-৩০)

অথচ আজকাল আত্মহত্যার ঘটনা প্রায়ই সংঘটিত হচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে এমন প্রবণতা বেশি। বখাটেদের উৎপাতের কারণে কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে, আবার মা-বাবার সামান্য বকুনির কারণেও আত্মহননের মতো ঘটনা ঘটছে। পারিবারিক বিপর্যয়, মানসিক অশান্তি, সন্ত্রাস, নারী নির্যাতন, ধর্ষণ, আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট, রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা, মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি বিষয়ের সঙ্গেও জড়িত আছে আত্মহত্যার মতো ধ্বংসাত্মক ঘটনা। এসব আত্মহত্যার পেছনে কাজ করে প্রচণ্ড মনস্তাত্ত্বিক চাপ। ফলে ভারসাম্য হারিয়ে তা সহ্য করতে না পেরেই আত্মহননের মধ্য দিয়ে দুর্বল চিত্তের ব্যক্তিরা মুক্তি খোঁজে। আত্মহত্যার ভয়ানক পরিণতি সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে লাফিয়ে পড়ে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করে, সে-ও জাহান্নামের মধ্যে সর্বদা ওইভাবে নিজ হাতে বিষ পান করতে থাকবে। আর যেকোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করে, তার কাছে জাহান্নামে সেই ধারালো অস্ত্র থাকবে, যা দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেট ফুঁড়তে থাকবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

ইসলামি বিধানে আত্মহত্যা নাজায়েজ; এর প্রতিফল চিরস্থায়ী জাহান্নাম। যে ব্যক্তি আত্মহত্যা করে, সে শুধু তার নিজের ওপরই জুলুম করে না বরং এতে মা-বাবা, ভাইবোনসহ আত্মীয়-পরিজন সবাই খুব কষ্ট পায় এবং অত্যন্ত বিচলিতবোধ করে। যে পরিস্থিতিতেই হোক না কেন, ইসলামের দৃষ্টিতে এ এক বিরাট অন্যায়। কারণ, এর দ্বারা আল্লাহর বেঁধে দেওয়া নিয়মের বরখেলাপ হয়ে যায়। তাই এমন কুচিন্তা থেকে সতর্ক থাকা প্রত্যেক মুমিন মুসলমানের বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক। নবী করিম (সা.) আত্মহত্যার শাস্তি ঘোষণা করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি যেই জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করে, কেয়ামতের দিন তাকে সেই জিনিস দ্বারাই শাস্তি দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে, সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শা ইত্যাদির আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে, সে দোজখেও সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে।’ (নাসাঈ, তিরমিজি)

আত্মহত্যার উল্লেখযোগ্য কারণ স্বামী-স্ত্রীর ঝগড়া-বিবাদ, মা-বাবা ও ছেলেমেয়ের মনোমালিন্য, পরীক্ষায় ব্যর্থতা, দীর্ঘস্থায়ী রোগযন্ত্রণা থেকে নিষ্কৃতি, প্রেমে বিরহ, ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতি ও ব্যর্থতা, শত্রুর কাছে ধরা না দেওয়া প্রভৃতি। যখন কারও জ্ঞান-বুদ্ধি, বিবেক ও উপলব্ধি-অনুধাবন শক্তি লোপ পায়, নিজেকে অসহায়-ভরসাহীন মনে হয়, তখনই ধর্ম-কর্ম ভুলে মানুষ আত্মহত্যা করে বসে। জাগতিক দুঃখ-কষ্ট, লাঞ্ছনা ও অপমান থেকে আত্মরক্ষা করার ইচ্ছায় মানুষ আত্মহননের মাধ্যমে চিরন্তন কষ্ট ও লাঞ্ছনার দিকে চলে যায়। আত্মহত্যার প্রতিফল সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের এক ব্যক্তি আহত হয়ে সে ব্যথা সহ্য করতে পারেনি। সে একটি ছুরি দিয়ে নিজের হাত নিজেই কেটে ফেলে। এরপর রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। এ ব্যক্তি সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘আমার বান্দা নিজেকে হত্যা করার ব্যাপারে বড় তাড়াহুড়া করে ফেলেছে। আমি তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিলাম।’ (বুখারি ও মুসলিম)

আত্মহত্যা একটি ভয়ংকর সামাজিক ব্যাধি। মাঝেমধ্যেই পত্রিকার পাতায় আত্মহত্যার সংবাদ প্রকাশিত হতে দেখা যায়। নানা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে হতাশ নারী-পুরুষ বেছে নেয় আত্মহননের দুর্ভাগ্যজনক পথ। ইসলামে আত্মহত্যা মহাপাপ জেনেশুনেও যাদের পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা দুর্বল, তারাই ধ্বংসাত্মক ও মর্মান্তিক ভ্রান্ত পথে পা বাড়ায়। তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস নয়, সৃষ্টির পথে এগিয়ে যেতে হবে। অথচ বাস্তবে দেখা যায়, অনেক উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, শিল্পপতি, ব্যবসায়ীও এমন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্ত নন। শিক্ষিত ও অশিক্ষিত ছাড়াও আত্মহত্যা যেমন যুবক ও প্রৌঢ়দের মধ্যে দেখা যায়, তেমনি তা নারী-পুরুষের মধ্যেও পরিলক্ষিত হয়। যদিও আত্মহত্যা সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ঘোষিত হয়েছে, ‘তোমরা নিজের হাতে নিজেদের জীবনকে ধ্বংসের মধ্যে নিক্ষেপ কোরো না।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ১৯৫)

যখন নিজেকে অসহায় ও আশাহত মনে হয় এবং আত্মহত্যার কুচিন্তা মনে আসে, তখন মনে করতে হবে এখন কুমন্ত্রণাদাতা শয়তানের দুরভিসন্ধি এসেছে। তাই এসব মানসিক দুশ্চিন্তা থেকে অবশ্যই দূরে থাকা বাঞ্ছনীয়। বিপদে ধৈর্যধারণে অবিচল থেকে আল্লাহর ওপর নির্ভর করার প্রেরণা তিনিই মানুষকে দান করেছেন। কখনো আত্মহত্যার কথা মনে এলে ফেতনা থেকে নিজকে রক্ষাকল্পে নামাজের মাধ্যমে বিনীতভাবে আল্লাহর দয়া ও সাহায্য কামনা করা উচিত। মুসলিম পরিবার ও সমাজজীবনে আত্মহত্যার মতো মহাপাপ থেকে সর্বস্তরের নর-নারী ও সন্তানসন্ততির বেঁচে থাকার জন্য ইসলামের বিধিবিধান ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলাই সর্বোত্তম পন্থা।

 


ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক, গবেষক ও কলাম লেখক।
তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো, বাংলাদেশ। 

Thursday, March 6, 2014

'উন্নয়নের মূল কথা নারী পুরুষের সমতা'

বিশ্বের সব দেশে নারীরা অধিকার আদায়ের আন্দোলন করছেন। আর একটি দিনকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাপী নারী আন্দোলন একসূত্রে গাঁথা হচ্ছে। বৈশ্বিকভাবে মোকাবেলার জন্য একটা ইস্যু চিহ্নিত করে একই সুরে কথা বলা হচ্ছে। এভাবে ক্রমাগত আন্তর্জাতিক নারী আন্দোলন শক্তি সঞ্চয় করেছে। আন্তর্জাতিক নারী আন্দোলন জাতীয় নারী আন্দোলনের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা, বিচ্ছিন্ন কোনো সংগ্রাম নয়।

বাংলাদেশে এখন নারী দিবস পালিত হচ্ছে ভিন্ন মাত্রায়। সরকার, বিভিন্ন নারী সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন এবং উন্নয়ন সংগঠনগুলো উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ৮ মার্চ পালন করছে। গণমাধ্যমও ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এবারের ৮ মার্চের স্লোগানের মূল প্রতিপাদ্য_ 'নারীর সমান অধিকার সকলের অগ্রগতির নিশ্চয়তা'। নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সব সম্পদে নারী-পুরুষের সমান অংশীদারি। এখানে যেমন প্রয়োজন রয়েছে পিতৃতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন, তেমনি রয়েছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব।


জাতিসংঘ সনদসহ কাগজে-কলমে বিশ্বে নারীদের অধিকারের কথা স্বীকৃত হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই। উন্নত বিশ্বে নারীরা শিক্ষায়, কর্মে ও উদ্দীপনায় পুরুষের পাশাপাশি অবস্থান করলেও তাকে তার কর্মক্ষেত্রে ও সমাজজীবনে কমবেশি নির্যাতিত হতে হচ্ছে। তৃতীয় বিশ্বে শিক্ষায় ও কর্মক্ষেত্রে নারীরা পিছিয়ে থাকায় সর্বোপরি ধর্মীয় সংস্কার ও সামাজিক নিষ্পেষণের জাঁতাকলে পড়ে নারী যেমন তার প্রাপ্য অধিকার পাচ্ছে না, তেমনি নির্যাতিত-নিগৃহীত হচ্ছে নানাভাবে।

স্বাধীনতার বিয়ালি্লশ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সরকার এসেছে, গিয়েছে; কিন্তু নারীর জীবনমানের উন্নতি হয়নি। নারীশিক্ষা, নারীর কর্মসংস্থান, নারীর প্রতি সামাজিক মূল্যবোধের খুব একটা উন্নয়ন ঘটেনি। নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রণীত আইনের বাস্তবায়ন ঘটেনি। প্রচলিত আইনের সংস্কারও যথোপযুক্তভাবে হয়নি। আজকের নারী আন্দোলনের মূল দৃষ্টিভঙ্গি ও লক্ষ্য হচ্ছে, পূর্ণ মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নারীকে বিবেচনা বা মূল্যায়ন করা। নারী-পুরুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক আরও উন্নত ও সমতাপূর্ণ, বৈষম্যমুক্ত গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠা করা, যা গোটা সমাজকে সমঅধিকার ও সমমর্যাদাভিত্তিক করার প্রয়াসকে সাফল্যের পথে অনেকদূর এগিয়ে দেবে।
শুধু বাজেট প্রণয়নই নয়, তার সুষ্ঠু বণ্টন এবং সে সঙ্গে রাষ্ট্র ও সমাজের অভ্যন্তরে নারীর জন্য বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। নারী-পুরুষের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গির বাধা ভেঙে অর্থনীতির মূল স্রোতধারায় নারীকে কী করে সার্থকভাবে যুক্ত করা যায়, নারী সংগঠনগুলো তা বিবেচনায় রেখেই আজকের বাংলাদেশে বর্তমান কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আমাদের সংবিধান ও রাষ্ট্রীয় নানা আইনে নারীর অধিকার স্বীকৃতি পেয়েছে। কিন্তু বর্তমান আর্থসামাজিক ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কারণে নারীরা এখনও সাংবিধানিক অধিকার ও আইনানুগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আমাদের সংসদে ৩০টি আসন সংরক্ষিত ছিল নারীদের জন্য, বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৫০ করা হয়েছে। কিন্তু প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচনের সুযোগ না থাকায় সত্যিকার নারী জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হচ্ছে না। এ ছাড়া বিবাহবিচ্ছেদ অভিভাবকত্ব ও সম্পত্তির উত্তরাধিকারবিষয়ক আইনগুলোতে নারী-পুরুষের মধ্যে বিরাট ব্যবধান তৈরি করেছে। প্রকৃতপক্ষে শিক্ষায় এগিয়ে আসা, কর্মক্ষেত্রে উচ্চপদ থেকে তৃণমূল পর্যায়ে নারীর ব্যাপক অংশগ্রহণ, নারীর অধিকার সচেতনতার বিষয়ে জোর দিতে হবে।

 




 দিল মনোয়ারা মনু
লেখক :সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মী
 তথ্যসুত্রঃ সমকাল।

Friday, January 24, 2014

Acid Violence - "Torol Agune Pora", A tale of horror and overcoming it

Acid terrorism has become a common phenomenon in Bangladesh. Observing the woes of acid victims, Ali Idris, a sensitive writer, could not remain idle, as a mute spectator. He turned his pen into a mighty weapon to fight the social evil and ended up writing a fictional account titled, "Torol Agune Pora". As a conscious writer, Idris has undertaken a noble effort to create mass awareness against acid violence in order to establish a society free from acid terrorism. "Torol Agune Pora" is his second novel, a pathetic story of a teenaged girl. Although the story is based on hard reality, all of its characters are imaginary through whom he has successfully depicted the woes of acid victims. Idris, who is also a columnist, has dedicated the novel to Acid Survivors Foundation, Prothom Alo and all other organizations and individuals who have come forward to eliminate acid terrorism by lending all-out support to its victims.

In "Torol Agune Pora", the writer has depicted the story of inhuman atrocity inflicted upon numerous victims, mainly girls and women, causing irreparable damage to their lives. Acid throwing is a horrible crime, unpardonable and a severely punishable act. The crime is being committed in our country by the likes of those who have for long usually gone unpunished due to loopholes in legal procedures. As a consequence, the crime is being committed unabated, turning the lives of victims into a nightmare. Acid Victims Recovery (AVR) is the lone organisation which provides shelter, treatment and patronisation to the victims of acid violence.

In the novel, Nilu, a schoolgirl, falls prey to acid terrorism perpetrated by her cousin because of her refusal to acknowledge his love. The writer has described her agony, distress and intolerable woe in simple but lucid language and has thereby touched hearts and awakened the consciousness of people across society. The cruel, heinous act of the acid thrower makes life for Nilu and her mother dreadful. She passes a full day weeping without getting any treatment. Luckily for her, her story is published in the media and draws the attention of an AVR worker named Chandni. She rushes from Dhaka to Rajshahi and brings Nilu to Dhaka for treatment. Nilu is admitted to a hospital in the capital.

Ultimately, she is shifted to the Burn Unit of Dhaka Medical College Hospital. The writer portrays a horrifying scene there. Not only Nilu, but a large number of victims as well wrapped in white bandage spend miserable days. Most of them do not lose their eyesight; but as ill luck would have it Nilu loses both her eyes. She struggles for life for a considerable period and wins the battle. This is possible owing to the selfless service of the kind-hearted Chandni. Later, AVR trains Nilu in the art of reading through Braille. Subsequently, she embarks on teaching other blind girls of the AVR centre.

The creative writing of the writer is aimed at promoting the wellbeing and welfare of people. His appeal to society has been depicted in his writing. He has accomplished his noble task successfully by appealing to the government and other relevant authorities as well as responsible people of society to play their due role in stopping the brutality of acid throwers. Born in 1948 in Sayastanagar village in Habiganj district, Ali Idris began his writing career in the 1970s. He has travelled widely. His other published books are Khoai Nodir Bakey, Shakhinar Boli, Purbo Africae Aek Jug, Markin Haoa and Geetidhara. Idris is vice-president of Bangladesh Book Club, Dhaka, and Anjuman Mufidul Islam, Habiganj. He is also treasurer of Habiganj Samity, Dhaka, and life member of Bangla Academy, Dhaka, Jalalabad Samity, Dhaka and Habiganj Sahittya Parisad.
 
 
By Z.A.M. Khairuzzaman, Working Journalist at The Daily Star. 
Source: The Daily Star, Bangladesh.

For Disability Inclusive Development And A Society For All: Break Barriers, Open Doors

The Daily Star and Action on Disability and Development - ADD International jointly organized a roundtable discussion on “For disability inclusive development and a society for all: Break barriers, open doors" on December 14, 2013 in association with German Embassy and European Union. 



Barrister Rafique-Ul Haque, Senior Advocate, Bangladesh Supreme Court and Chief Guest of the roundtable:
Representation of persons with disability in national parliament is a must. Voter may be anybody but candidate must be a person with disability. In our constitution, in Articles 14,15,17,18, 19 and 23 (A) it is clearly said that you cannot show any discrimination to them. The recent Act provides all kinds of protection to them. This Act is being prepared according to the UN Convention on Rights of People with Disability. Under this law, persons with disability can seek remedy for their problems. They can even file writ in court for their rights. If anyone discriminate a person with disability the victim can take action against the perpetrator according to this law. In our constitution every citizen has equal rights.

Brig Gen (retd.) M Sakhawat Hussain,  Former Election Commissioner:
We talked to Ministry of Education about arrangement of ram facilities in schools because often voter centers are located in schools. He assured us to implement the idea. Representation of people with disability should be ensured. For that we do not need to change our constitution. It can be done easily. In India there are reserved seats for Christians under president's authority. We can also implement the  same policy for persons with disability.  

Dr. Sayed Anwar Hossain, Professor, Dept. of History, University of Dhaka:
We have to create a friendly environment for persons with disability. People who are not sensitive to rights of persons with disability are disabled in their attitude. Organization is a big strength. We have to organise ourselves.We have to fight for our rights. We have to change our outlook. In national assembly there must be 5 reserve seats for disabled people. And the representatives should be elected from persons with disability.

M Nurun Nabi, Project Manager, ADD International and Chair & Moderator of the roundtable:
The theme of our discussion is 'For disability inclusive development and a society for all : Break barriers, open doors' Since Independence, we have cherished an inclusive society where no one will face discrimination. This is the spirit of our liberation movement. We all should work together for realizing that goal. We need concerted efforts to uphold the rights of the people with disability. We know mainstreaming of the potential of the people with disability would help to contribute in the process of overall development of the country. At present about 16 million people of Bangladesh are disabled.
ADD International,an UK-based International NGO, has been working for the last 25 years to support disabled people's organizations in Africa and Asia. It helps them to become strong and effective. It listens to disabled people and build a shared understanding of their particular needs so that disabled people can identify their own priorities. ADD International  responds to these needs  through training, mentoring, leadership development, conflict resolution. It supports disabled people to access their most basic rights. In Bangladesh ADD supports and works with groups of disabled people and Disabled Peoples Organizations (DPOs) in 28 districts to make them organized and self-reliant.
The issue of disability is a social problem. It is a matter of the full integration of individuals into the society. Disability is not an attribute of an individual, but rather a complex collection of conditions, many of which are created by the social environment. Hence, the management of the problem requires social action and it is a collective responsibility of society to make the environmental modifications necessary for the full participation of people with disabilities in all areas of social life.


A H M Noman, Founder & CEO, DORP:
We have to start working with basic rights. If persons with disabilities get basic rights then they will be able to ask for other rights. We should focus on mothers. There is system of providing allowance to pregnant mothers. In this programme, pregnant mothers with disability should be given priority. It will help reduce burden on mothers. It will provide food and nutrition for mothers. Only then no disable children will be born. We are working with 942 pregnant mothers. We provide them proper care and nutrition, none of them have give birth to a child with disability.

Dr. Kulsoom Abul Bashar, Supernumerary Professor, Department of Persian, University of Dhaka:
I can feel the grief of disabled people because I am also a mother of person with disability. I think, the first support should come from parents. If they take care of their children with disability, it will help improve their mental status. When my son got admitted in Dhaka University there was no lift facility. It was really difficult for my son to climb up floors after floors. He lost inspiration and left university. Now the situation has improved. There are lifts in Dhaka University and more students with disability now continue study in that university. I never see any teacher with disability in universities. If there were some example like that it would boost confidence of other students with disability.

Dr. Zinat Huda, Professor, Department of Sociology, University of Dhaka:
We have come a long way in improving life of persons with disability. Families used to hide their children with disability. Those children were deprived of family care, social respect and support from government. Now they get recognition from family and society. Many of them are working like a normal person. They are raising their voices. They ask for their rights. Adoption of this law is a great achievement. I want to praise government and other stakeholders for their continuous efforts. I want to suggest some points: We have to start from family. A child with disability should be taken as a God gifted child. He should be treated like an angel. So our parents should change their mindset and take courage to include their children with disability  in normal life. We have to implement inclusive education system. Children with disability should be registered in mainstream schools where they will get special care. Media can play a good role. They can help change the mindset of our general people.

Sohrab Hasan, Joint Editor, Prothom Alo:
We should not use the word disabled. They are able in their own way. First we have to change our selves. We are talking about leadership in national assembly. First we have to give priority on their representation in their family. We have to start from family: access to family, then society and at last at the national level. We have to fight for our own rights. Nothing can be attained without all out effort.

Abul Hasnat, Representative, SUJON:
What are the reasons of disability? Number one is poverty. Second is how a child is born. A pregnant mother does not get proper nutrition. So her child also does not get enough calories. It is one of the reasons of disability. Often they get hurt in head during birth. It creates crippling effect on an infant and cause disability. We have to ensure proper care of pregnant mothers and safe delivery system.

Ferdousi Begum, Deputy Program Coordinator, ADD International:
I am also a disabled person. I am working with ADD from 1998. I think everyone can do everything if they get scope. I never think and feel myself disabled. There was a girl with disability named Husne Ara who was gang raped. When we went to court, magistrate dissolved the case saying the girl could not testify about the case. Then we shifted the case to Khulna. And some days ago the perpetrators were given 80 year imprisonment.  Our judges should be trained about the rights of persons with disability. According to law, there should be 10% quota for persons with disability in government jobs. But they do not get the chance. One of our girls qualified in an exam. But she did not get the job. We do not know why.

Nasima Akhter, President, National Council for Disabled Women (NCDW):
Disabled women often become victims of repression and sexual harassment. Court does not allow persons who cannot speak as witness. Thus perpetrators manage to get escape. There are many educated PWDs who do not get scope of applying their skills. We should create employment opportunities for them. We want our representative in parliament. Only then we will be able to place our demand properly to the highest authority.

M S Siddiqee , Columnist:
We should make people aware about rights of persons with disability. Media can play a big role here. We should discuss more on the provisions of the new act. We have disseminated the information about this Act to remote areas of Bangladesh.

Sam Beerwith, APM, Shiree:
Among the extreme poor, people with disability suffer from worst form of deprivation and poverty. So when we talk about eradication of poverty we have to focus on disabled people. The new Act is a huge achievement as it guarantees right of people with disability in Bangladesh. However, as with any policy the real challenge comes from implementation. Now we have a policy and a framework. We need to implement these policies. How can we do that? One way of doing that is providing support to civil society organization that work for persons with disability. ADD works through a huge network of DPOs. They are working at the root level. They can give us feedback on whether the policy is being implemented by the concerned organizations. This is very important because that means we can hold the government and the implementininstitutions accountable. We need to know whether this policy is delivering in the real life or not. The media also can play a big role here. They can monitor whether the policy is being properly implemented or not.  

Advocate Rezaul Karim Siddique , BLAST:
In the ongoing volatile political situation persons with disabilities are forced to remain idle in house.  We have recently found that a person with disability got 20% burnt when a picketer hurled a bomb at a bus. He failed to come out of the bus and become victim. We want to get rid of this situation.

Sumon Hossain, President, Dhaka District Federation (DPO):
We do not get stipend on time. It should be given in every six or nine months. In our education institutions there is quota only for blind students. For example, in the admission form of National University it is clearly mentioned that only blind students will get quota. There are five to six types of disability in our country. So what about people with other types of disability? Only the phrase ' person with disability' should be written in quota forms. Many government schools even do not give scope of appearing in admission test. These types of discrimination should be ended.

Nargis Islam, DPO leader, Dhaka
I want to say about loan and allowance for the disabled. I went to a bank to collect allowance for one of my peers who had recently died. The bank officer took the book but did not provide the allowance or any satisfactory reply. It is alleged that they keep the money in their pocket. Second point is about loan. People with disability get a one time loan of 10,000 taka. It is not adequate to start a business. I think the frequency and amount of loan should be increased.

As an Acid survivor I did not get any help from the government. I did not know about. When I got informed I went to social welfare office but they refused my application as the case happened before 1999. They misbehaved with me. I felt very upset. It is common feature of our government office. I want a friendly environment in government offices. I want to suggest that family of a dead person with disability should be given the whole amount of allowance at a time. It will be really helpful for  the family.





Source: The Daily star, Bangladesh.

:

Thursday, January 23, 2014

বিবিএসের জরিপ - ৮৫% নারীর উপার্জন করারও স্বাধীনতা নেই

৮৫ শতাংশ নারীর উপার্জনের স্বাধীনতাও নেই। মাত্র ১৫ শতাংশ নারী নিজের ইচ্ছায় উপার্জনের স্বাধীনতা পান। আবার যাঁরা আয় করেন তাঁদের প্রায় ২৪ শতাংশেরই নিজের আয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই। তবে গ্রামের তুলনায় শহুরে নারীদের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা বেশি আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রথমবারের মতো নারী নির্যাতন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে জরিপ চালিয়েছে। ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ভিএডব্লিউ) সার্ভে ২০১১’ নামের সমন্বিত এ জরিপেই নারীর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির এই চিত্র উঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৮৭ শতাংশ নারী নির্যাতনের শিকার হন। জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, খানার প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বামী (৯২ শতাংশ)। আর মাত্র ২ দশমিক ২ শতাংশ নারী পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তবে দেখা গেছে, স্ত্রীকে অল্পসংখ্যক স্বামীই উপার্জনের স্বাধীনতা দেন। তবে যাঁরা দেন, সেসব স্বামীর ৯৩ দশমিক ১৯ শতাংশই স্ত্রীর উপার্জন করার বিষয়টিকে ভালো চোখে দেখেন না।
 
জরিপে চার ধরনের নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। শারীরিক, যৌন ও মানসিক নির্যাতন ছাড়াও নারীরা বড় ধরনের অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন। আর এই অর্থনৈতিক নির্যাতনের মধ্যে যৌতুকের বিষয় নিয়েও নারীদের প্রশ্ন করা হয়। দেখা গেছে, এক-তৃতীয়াংশ নারীরই যৌতুকের বিনিময়ে বিয়ে হয়েছে। মুসলিম নারীদের অনেকেই দেনমোহর, কাবিননামার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতন নন। ৪০ শতাংশের বর্তমান ও প্রাক্তন স্বামী দেনমোহরের টাকা কখনোই পরিশোধ করেননি। জরিপে অন্তর্ভুক্ত খানাগুলোতে জমির মালিকানা আছে ৮১ শতাংশ পুরুষের। আর মাত্র ১৯ শতাংশ নারীর জমির মালিকানা আছে। বাড়ির মালিকানার ক্ষেত্রেও ৮৬ শতাংশ পুরুষের বিপরীতে নারীর হার মাত্র ১৪ শতাংশ। জরিপে অংশগ্রহণকারী নারীদের ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ অবিবাহিত। সম্প্রতি বিবাহিত ৭২ শতাংশ। তবে এঁদের মধ্যে ৬ শতাংশ বিভিন্ন কারণে স্বামীর সঙ্গে থাকেন না। বিধবা এবং তালাকপ্রাপ্ত নারীর সংখ্যা ১১ শতাংশ। ১ শতাংশেরও কম নারী একা থাকেন।

আইনি সহায়তা: জরিপ বলছে, ৭১ শতাংশ নারীই আগের ১২ মাসে স্বামীর হাতে চর, থাপড়, জিনিস ছুড়ে মারা, চিৎকার করা, গরম পানি ঢেলে দেওয়া, চুলের মুঠি ধরে নির্যাতন করা, অ্যাসিড নিক্ষেপ, বন্দুক, ছুরি বা অন্য কিছু দেখিয়ে ভয় দেখানোসহ বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হন। কারও কারও ক্ষেত্রে এ ধরনের ঘটনা একাধিকবার ঘটেছে। শহরের নারীদের চেয়ে গ্রামের নারীদের হাড় ভেঙে যাওয়া, চোখে আঘাত পাওয়া, আঘাতের কারণে স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে না পারাসহ গুরুতর নির্যাতনের ঘটনা বেশি ঘটে। তবে শারীরিক নির্যাতনের পর ৪০ শতাংশেরও বেশি নারী আইনি সহায়তা নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি। ২০ শতাংশ ভবিষ্যতে সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের কথা চিন্তা করে তা করেননি। ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ নারী নিজের ও পরিবারের কথা চিন্তা করে আইনের আশ্রয় নেননি। এঁদের ক্ষেত্রে সামাজিক মানসম্মানের বিষয়টিও চিন্তার মধ্যে ছিল। ১০ শতাংশ স্বামীর ভয়ে আইনের আশ্রয় নেননি। তবে জরিপে উঠে এসেছে, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার ৫ শতাংশ নারী মনে করেছেন স্বামীর স্ত্রীকে মারার অধিকার আছে, তাই আইনের আশ্রয় নেওয়ার কোনোই প্রয়োজন নেই। জরিপ বলছে, পারিবারিক নির্যাতন নিয়ে এ ধরনের মনমানসিকতা আইনের আশ্রয় নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হিসেবে কাজ করে।
 
স্বামীর অনুমতি: ৪৬ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যসেবা নেওয়ার জন্যও স্বামীর অনুমতি নিতে হয়। ৩০ শতাংশ নারীর স্বামী পর্দাপ্রথা মানতে তাঁদের বাধ্য করেছেন। এক-চতুর্থাংশই বলেছেন, শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে স্ত্রী খারাপ ব্যবহার করেছেন, এ অভিযোগ পেয়ে স্বামী নির্যাতন চালিয়েছেন। ২৪ শতাংশ নারীই জানিয়েছেন, স্বামী বাবা-মা তুলে বাজে গালি দেন। অন্য পুরুষের সঙ্গে কথা বলার অপরাধে ২৪ শতাংশ নারীই স্বামীর নির্যাতনের শিকারের কথা জানিয়েছেন। প্রায় ১১ শতাংশেরই পড়া বা কাজে বাধা দিয়েছেন স্বামী। ২৩ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, বিনোদনের জন্য বাইরে যাওয়ার বিষয়ে স্বামীর নিষেধাজ্ঞা আছে। পরিবার পরিকল্পনার জন্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি গ্রহণ বা বাদ দিতে বাধ্য করার কথা জানিয়েছেন প্রায় ১১ শতাংশ নারী। মেয়েসন্তান জন্ম দেওয়ার অপরাধে প্রায় ৬ শতাংশই স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন।
 
স্বামী বদল হলেও পিছু ছাড়েনি নির্যাতন: জরিপমতে, প্রাক্তন ও বর্তমান স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ক্ষেত্রে খুব একটা তারতম্য নেই। অর্থাৎ স্বামীর বদল হলেও নির্যাতন পিছু ছাড়েনি। বর্তমান স্বামীর হাতে ৮১ শতাংশ মানসিক নির্যাতনের শিকার। এ ক্ষেত্রে সাবেক স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন ৭৩ শতাংশ। শারীরিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে বর্তমান স্বামীর হাতে নির্যাতনের শিকার হন ৬৪ শতাংশ, সাবেক স্বামীর হাতে এ হার প্রায় ৫৯ শতাংশ। বর্তমান স্বামীর নির্যাতনের কারণে ৩ শতাংশ এবং সাবেক স্বামীর নির্যাতনের কারণে ২ শতাংশ নারীর গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যায়। অর্থনৈতিক, বিয়ের সময় যৌতুক নেওয়া, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়াসহ অন্যান্য কারণেও তেমন পার্থক্য ঘটেনি দুই স্বামীর বেলায়।
 
জায়গাভেদে নির্যাতন: কর্মক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ নারী শারীরিক, ২৫ শতাংশ মানসিক ও ২৮ শতাংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হন। নির্জন স্থানে, প্রকাশ্যে অথবা যাতায়াতের সময় ৪৩ শতাংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হন। কোচিং সেন্টারে ১০ শতাংশ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১২ শতাংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হন। জায়গার পাশাপাশি নারীর অবস্থান অনুযায়ীও নির্যাতনের তারতম্য ঘটে। একা থাকা নারীদের ৩৫ শতাংশ এবং তালাকপ্রাপ্ত নারীদের ৩৭ শতাংশই মানসিক নির্যাতনের শিকার। তালাকপ্রাপ্তদের ৩০ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হন।
 
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জ্যেষ্ঠ রিসার্চ ফেলো এবং সরকারের সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা প্রণয়ন কমিটির সদস্য নাজনীন আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, শারীরিক নির্যাতনের বাইরেও যে অর্থনৈতিক বা মানসিকভাবে নারীরা নির্যাতনের শিকার হন বিবিএসের জরিপে তা স্পষ্ট হয়েছে। নারীর ক্ষমতায়নের বড় জায়গা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা। দেশের অনেক নারী যোগ্যতা থাকার পরও উপার্জন করতে পারছেন না। সম্পত্তিতেও নারীর অধিকার খুবই কম। যতটুকু আছে বিভিন্ন কারণে তাও পান না। এ ছাড়া যে গৃহবধূ সারাক্ষণ বাড়িতে কাজ করছেন তাঁরও যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আছে তাও পুরুষেরা ভুলে যান। অথচ অর্থনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করতে না পারলে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বড় দুর্বলতা থেকেই যাচ্ছে।




সুত্রঃ প্রথম আলো, বাংলাদেশ
তারিখঃ ২৪-০১-২০১৪।

Wednesday, January 22, 2014

নারী নির্যাতন নিয়ে সরকারের প্রথম জরিপ - নারী ঘরেই বেশি নির্যাতিত

সামাজিক সূচকে বাংলাদেশের বিস্ময়কর সাফল্যের পেছনে নারীর অগ্রগতি বড় ভূমিকা রাখলেও ঘরের মধ্যে নারীর অবস্থা তেমন বদলায়নি। দেশের বিবাহিত নারীদের ৮৭ শতাংশই স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনো সময়ে, কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৫ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা স্বামীর মাধ্যমে শারীরিক নির্যাতন ভোগ করেছেন, ৩৬ শতাংশ যৌন নির্যাতন, ৮২ শতাংশ মানসিক এবং ৫৩ শতাংশ নারী স্বামীর মাধ্যমে অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।  বিস্ময়কর আরও তথ্য হচ্ছে, এসব নারীর ৭৭ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা বিগত এক বছরেও একই ধরনের নির্যাতন ভোগ করেছেন। বড় অংশের নারীকেই তাঁদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে যৌনসম্পর্ক গড়তে বাধ্য হতে হয়েছে।


সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) দেশে প্রথমবারের মতো নারী নির্যাতন নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি জরিপ চালিয়েছে। ‘ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন (ভিএডব্লিউ) সার্ভে ২০১১’ নামের এই জরিপে নারী নির্যাতনের এ ধরনের চিত্রই উঠে এসেছে। গত বছরের ডিসেম্বরে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়। এর আগে দেশে নারী নির্যাতন নিয়ে বিভিন্ন সংস্থা আলাদাভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিবিএসের এ জরিপ বলেছে, শারীরিক নির্যাতনের শিকার নারীদের মাত্র অর্ধেক চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পান। এক-তৃতীয়াংশ নারীই স্বামীর ভয়ে বা স্বামী সম্মতি না দেওয়ায় চিকিৎসকের কাছ পর্যন্ত যেতেই পারেননি। আন্তর্জাতিক সিডও কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান সালমা খান প্রথম আলোকে বলেন, পারিবারিক নির্যাতন নিয়ে আগে নারীরা মুখ খুলতেন না। ঘরোয়া ব্যাপার বা লজ্জাজনক মনে করতেন। বর্তমানে মুখ খুলছেন। অন্যদিকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহুদিন আগে থেকেই কাজ হচ্ছে। কিন্তু নারী নির্যাতনের মাত্রা বাড়ছেই। এর মূল কারণ হলো, নারী নির্যাতনের বিষয়টি এখনো জাতীয় বিষয়ে পরিণত হতে পারেনি। চোখের সামনে নির্যাতন দেখলেও সবাই মেনে নিচ্ছে। দুর্বল আইনের শাসনও এ ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তাই এ ধরনের সংস্কৃতি যত দিন পরিবর্তন না হবে, তত দিন নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব হবে না।
 
জরিপ: জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় সরকার এ জরিপ করেছে। এ জরিপ প্রকল্পের পরিচালক জাহিদুল হক সরদার প্রথম আলোকে বলেন, জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সদস্যরাষ্ট্রগুলোতে নারী নির্যাতনের অবস্থান জানার জন্য জাতিসংঘের পরিসংখ্যান বিভাগের (ইউএনএসডি) নির্ধারিত মানদণ্ডের আলোকে জরিপ চালানোর আহ্বান জানানো হলে ভিয়েতনামের পরেই বাংলাদেশ এ ধরনের জরিপ চালিয়েছে। নির্ধারিত মানদণ্ডে বিবাহিত নারীদের যৌন নির্যাতনের বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু কিছু বিষয়, যেগুলো দেশের জন্য প্রযোজ্য নয়, তা বাদ দেওয়া হয়েছে। 

ভিয়েতনামের পরিস্থিতি অবশ্য বাংলাদেশের তুলনায় খানিকটা ভালো। ভিয়েতনামের করা জরিপ অনুযায়ী, সে দেশের ৫৮ শতাংশ নারীই স্বামীর মাধ্যমে কোনো না কোনোভাবে নির্যাতনের শিকার হন। অন্যদিকে, উন্নত বিশ্বের নারীরাও পারিবারিক নির্যাতনের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। ২০১০ সালের ইউরোপীয় ইউনিয়নের করা এক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপের প্রতি চারজন নারীর মধ্যে একজন জীবনের কোনো না কোনো সময়ে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন। জরিপে বলা হয়েছে, ৭৮ শতাংশই মনে করেন, নারী নির্যাতন খুবই পরিচিত ঘটনা। অন্য একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ইসরায়েল, দক্ষিণ আফ্রিকা ও যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ নারী তাঁদের স্বামী বা ছেলেবন্ধুর হাতে খুন হন। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরোর ২০১১ সালে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বছরটিতে ৪৪ শতাংশ নারী স্বামী বা আত্মীয়স্বজনের মধ্যমে নির্যাতনের শিকার হন।
 
বিবিএস এ জরিপের জন্য সাতটি বিভাগের সাতটি গ্রাম ও সাতটি শহরকে বেছে নেয়। তারপর গ্রাম ও শহর মিলে ৪২০টি এলাকায় ভাগ করা হয়। একেকটি এলাকায় ৩০টি খানা থেকে একজন করে নারীকে বাছাই করা হয়। ১৫ বছরের বেশি বয়সী ১২ হাজার ৬০০ জন নারীকে লটারির মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। তাঁদের মধ্যে ১২ হাজার ৫৩০ জন নারী জরিপে তথ্য দেন। জরিপের তথ্য সংগ্রহ করা হয় ২০১১ সালের ১৯ থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত। আর গত ৩০ ডিসেম্বর জরিপটি প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপ অনুযায়ী, শহরের তুলনায় গ্রামে নারী নির্যাতনের ঘটনা একটু বেশি ঘটে। বয়স অনুযায়ী নির্যাতনের ধরন পাল্টাতে থাকে। আবার যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে অবিবাহিত নারীরা বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকলেও মানসিক নির্যাতনের ক্ষেত্রে বিবাহিত নারীরা এর শিকার বেশি হন। মূলত স্বামীর বাড়িতে নারীরা শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার বেশি হন। জরিপে ৭ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, নির্যাতনের কারণে তাঁরা আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালিয়েছেন। বিবাহিত নারীদের ৫৬ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের আগেই।
 
মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি প্রথম আলোকে বলেন, নারী নির্যাতন বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিতে তিনি একমত নন। আগে নির্যাতনগুলো প্রকাশিত হতো না, এখন প্রকাশিত হচ্ছে। তবে নির্যাতনের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার নারী নির্যাতন প্রতিরোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও শিক্ষা বাড়াতে হবে, যাতে করে নারীর আত্মসম্মান বাড়ে এবং নিজের অধিকারটা বুঝতে পারে। তবে সবার আগে প্রয়োজন সমাজের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন।
 
স্বামীর মাধ্যমে যৌন নির্যাতন: জরিপে চার ধরনের নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। যেমন: শারীরিক, যৌন, মানসিক ও অর্থনৈতিক নির্যাতন। শারীরিক নির্যাতনের মধ্যে ৪৫ শতাংশ নারীকে তাঁদের স্বামীরা চড় বা ঘুষি মেরে আহত করেছেন, আর ১৫ শতাংশ লাথি বা মারধরের শিকার হয়েছেন। যৌন নির্যাতনের ক্ষেত্রে ২৬ শতাংশ নারী ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামীর সঙ্গে শারীরিক মিলনের সময় আহত হয়েছেন। আর ৩০ শতাংশ স্বামীর ভয়ে অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিক মিলনে বাধ্য হন। জরিপ বলছে, এক-চতুর্থাংশ নারীর ক্ষেত্রেই এ ধরনের যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে বিগত এক বছরে। ২০ থেকে ৩৪ বছর বয়সী নারীরা এ নির্যাতনের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির মধ্যে আছেন। শহরের তুলনায় গ্রামে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। জরিপে প্রত্যেকের কাছে ঠিক এক বছর আগে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন কি না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছিল। তাতে দেখা যাচ্ছে, নির্যাতনের পরিমাণ তেমন কমেনি।
 
ধারণা করা হয়, ঘরের ভেতরে নারীরা নিরাপদ। তবে এ জরিপ বলছে উল্টো কথা। বাইরের মতো ঘরের ভেতরেও স্বামী ও অন্যান্য আপনজনের কাছেই নারী ঝুঁকির মধ্যে থাকেন এবং নির্যাতনের সম্মুখীন হন। বিয়ের আগের চিত্রটিও নারীর জন্য ভয়াবহ। প্রায় ৪২ শতাংশ নারী বলছেন, তাঁরা ১৪ বছর বয়সের আগেই জোরপূর্বক যৌনসম্পর্ক করতে বাধ্য হন, আর ৩৫ শতাংশ নারীর প্রথম এ অভিজ্ঞতা হয় ১৯ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই। জরিপটি বলছে, জীবনের কোনো না কোনো সময়ে ৬৫ শতাংশ বিবাহিত নারী স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। আর বিগত এক বছরেই এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বিবাহিত নারীদের প্রায় অর্ধেক। সে সময়ে ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী নারীরা বেশি নির্যাতনের শিকার হন। একাধিক বিয়ে করা ৯৮ শতাংশই বলছেন, সাবেক স্বামীও তাঁদের মারধর করতেন। এর মধ্যে আবার ৬৬ শতাংশই বর্তমান স্বামীর হাতে একইভাবে নির্যাতনের শিকার।
 
জরিপ অনুযায়ী, বিবাহিত নারীদের প্রায় অর্ধেকই অর্থনৈতিক নির্যাতনের শিকার হন। এক-তৃতীয়াংশই গত এক বছরে এ ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ নির্যাতনও গ্রামে একটু বেশি দেখা যায়। ৩০ শতাংশ নারী বলেছেন, স্বামীরা হাতখরচ দিতে অস্বীকৃতি জানান। ১৭ শতাংশ বলেছেন, স্বামীর টাকাপয়সা আছে এবং অন্যান্য খাতে খরচও করছেন, কিন্তু তার পরও তাঁরা সংসারের খরচ দিতে চান না। অন্য সদস্যদের মাধ্যমে নির্যাতন: শেষ এক বছরে স্বামী ছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ নারী নির্যাতনের শিকার হন। ২৯ বছরের কম বয়সী নারীরা এ ধরনের নির্যাতনের ক্ষেত্রে বেশি ঝুঁকির মধ্যে থাকেন। ৪ শতাংশ নারী পরিবারের অন্য সদস্যদের মাধ্যমে যৌন নির্যাতনের শিকার হন। গড়ে ৪২ শতাংশ নারী এবং ৫০ শতাংশ শহরের নারী ১৪ বছর বয়সের আগেই যৌনসম্পর্ক করতে বাধ্য হন। এক-তৃতীয়াংশই বলেছেন, তাঁদের প্রথম এ অভিজ্ঞতা হয় ১৯ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই।
 
আরও কিছু তথ্য: দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে এমন ১৯ শতাংশ নারী বলেছেন, বর্তমান স্বামীর ঘরে থেকে তাঁরা নিজেদের পছন্দে ভোট দিতে পারেন না। আগের স্বামীর সংসারে একই অবস্থা ছিল ২০ শতাংশ নারীর। নির্যাতনের ঘটনাস্থল নিয়েও জরিপে রয়েছে কিছু চমকপ্রদ তথ্য। যেমন: প্রায় ৮৮ শতাংশ বলেছেন, তাঁরা স্বামীর সংসারে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন, ৮৬ শতাংশ হন মানসিক নির্যাতনের শিকার আর যৌন নির্যাতনের শিকার হন ৫৫ শতাংশ। এর পরেই রয়েছে কর্মক্ষেত্র। ১৬ শতাংশ নারী কর্মক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতন, ২৬ শতাংশ মানসিক নির্যাতন আর ২৯ শতাংশ যৌন নির্যাতনের শিকার হন। অর্থাৎ, ঘরে বা বাইরে কোথাও নিরাপদ নন নারীরা।





সুত্রঃ প্রথম আলো, বাংলাদেশ
তারিখঃ ২৩-০১-২০১৪।

Saturday, September 28, 2013

এজাহার করবেন কীভাবে ?

 
কোনো অপরাধ বা অপরাধমূলক কিছু ঘটার পর সে বিষয়ে থানায় প্রতিকার পাওয়ার জন্য যে সংবাদ দেওয়া হয়, তাকে এজাহার বা এফআইআর (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) বলে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি নিজে বা তাঁর পরিবারের কেউ কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি, যিনি ঘটনা ঘটতে দেখেছেন কিংবা ঘটনা সম্পর্কে অবগত আছেন, তিনি থানায় এজাহার করতে পারেন। মূলত এজাহার করার মাধ্যমে থানায় মামলা করা হয়।

এজাহার করার নিয়মকানুন:
কোনো অপরাধ সম্পর্কে নিকটস্থ থানায় এজাহার করতে হবে। এজাহারের আবেদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখতে হবে। লিখিত আকারে দেওয়া হলে সাদা কাগজের এক পিঠে লিখতে হবে। কম্পোজ করেও দেওয়া যাবে। ঘটনার পূর্ণ বিবরণ, ঘটনার স্থান, সময় ও কীভাবে ঘটনা ঘটল, আসামির নাম ঠিকানা জানা থাকলে তার বিবরণ স্পষ্টভাবে লিখতে হবে। এজাহারকারীর পূর্ণ ঠিকানা ও সই থাকতে হবে। যদি মৌখিকভাবে থানায় এজাহার দেওয়া হয়, তাহলে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা লিখবেন। অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে, জিডি (সাধারণ ডায়েরি) আর এজাহার এক বিষয়। এ দুটি এক বিষয় নয়। জিডি হচ্ছে থানায় কোনো ঘটনা সম্পর্কে অবগত করা মাত্র, আর এজাহার হচ্ছে সরাসরি মামলা গ্রহণে পদক্ষেপ নেওয়া।

এজাহারে উল্লিখিত অপরাধ যদি আমলযোগ্য কিংবা এমন কোনো ঘটনাসংক্রান্ত হয়, যা তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিলে আসামিদের ধরা যাবে বা শনাক্ত করা যাবে, সে ক্ষেত্রে পুলিশ তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেবে। আর যদি এজাহারে বর্ণিত অপরাধ বা বিষয়টি আমলযোগ্য না হয়, তবে পুলিশ এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দাখিল করবে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বা তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেটের কাছ থেকে অনুমতি নেবে। এমনও হতে পারে, এজাহারকারীকে সরাসরি মুখ্য বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে অভিযোগ দাখিল করার পরামর্শ দেবে।ঘটনা সংঘটিত হওয়ার কত দিনের মধ্যে পুলিশকে সংবাদ দিতে হবে বা এজাহার করতে হবে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময় দেওয়া নেই আইনে। তবে এজাহার করতে দেরি করা উচিত নয়। দেরিতে এজাহার মামলার গুণাগুণ নষ্ট করতে পারে। কোনো কারণে এজাহার করতে দেরি হলে তার সুনির্দিষ্ট কারণ আবেদনে উল্লেখ করতে হবে।

থাকতে হবে সতর্ক:
এজাহার গ্রহণকালে পুলিশের কর্মকর্তাকে যথেষ্ট আন্তরিক ও সতর্ক থাকা উচিত। একজন এজাহারকারী হচ্ছে মামলায় প্রথম সাক্ষী। এজাহারকারীর সাক্ষ্যের ওপর অনেকাংশ নির্ভর করে মামলার বিচার ও পরিণতি। তাই এজাহার গ্রহণের সময় সতর্ক না থাকার কারণে মামলার বিচারে এর প্রভাব পড়ে। কর্মকর্তাকে এজাহারকারী থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জিজ্ঞেস করে নিতে হবে, যাতে কোনো গরমিল না হয় সাক্ষ্যের সময়। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এজাহারকারী যদি মৌখিক কোনো বিবৃতি দেন, তাহলে তা লিখিত আকারে নিয়ে এজাহারকারীকে পড়ে শোনাতে হবে এবং তাঁর স্বাক্ষর নিতে হবে। যে কর্মকর্তা এজাহার লিখবেন, তিনিই সিল ও সই দেবেন। কোনো আমলযোগ্য অপরাধের ঘটনা থানায় এলে তা মৌখিক আর লিখিত—যা-ই হোক, এজাহার হিসেবে নিতে থানা বাধ্য থাকবে। কোনো ঘটনা টেলিফোনে বা ই-মেইলে পেলে সংবাদদাতাকে থানায় গিয়ে এজাহার করার কথা বলতে হবে। যদি বার্তা প্রেরণকারীকে পাওয়া না যায়, তাহলে পুলিশের কর্মকর্তা নিজেই এজাহার করতে পারবেন, যদি ঘটনাটির সত্যতা পাওয়া যায়।

তানজিম আল ইসলাম,
লেখক: আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট



Source: Doinik Prothom Alo

Monday, April 15, 2013

নারীর জন্য এ কেমন ব্যবস্থা? দরকার সচেতনতা...


ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে ধর্ষণের শিকার নারীর শারীরিক পরীক্ষা করেন পুরুষ চিকিৎসক। ওই চিকিৎসককে সহায়তা করেন পুরুষ ওয়ার্ডবয়। দেশের সবচেয়ে গৌরবময় চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে ধর্ষণের প্রমাণপত্র নিতে এসে নারীকে চরম লজ্জা আর অপমানের মুখোমুখি হতে হয় প্রায়ই। ধর্ষণ, হত্যা, দুর্ঘটনার মামলা অথবা ছেলে বা মেয়ের বয়স নির্ধারণে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে সনদ নিতে হয়। আইনের চোখে এ সনদ গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অনেকে মনে করেন, এ দলিল পেতে দ্বিতীয়বার ধর্ষণের শিকার হন নারী। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে কোনো নারী চিকিৎসক নেই। কোনো নারী নার্স, এমনকি আয়াও নেই। অধ্যাপকসহ নয়টি চিকিৎসকের পদের একটিতেও নারী নেই। ১৫ বছর আগে বিভাগটি প্রতিষ্ঠিত হলেও এত দিনে পিয়ন পদে একজন নারী ছাড়া আর কোনো পদে কোনো নারীকে পদায়ন করা হয়নি।
 
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ কাজী দ্বীন মোহাম্মাদ গত ২৪ মার্চ প্রথম আলোকে বলেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে একজন নারী চিকিৎসককে ওই বিভাগে পদায়ন করা হবে। তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসাশাস্ত্রে নারী-পুরুষের কাজ আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।’  কিন্তু ১৫ এপ্রিল ফরেনসিক বিভাগের প্রধান মোখলেছুর রহমান প্রথম আলোকে জানান, তিনি এখনো এ বিভাগের জন্য নারী চিকিৎসক নিয়োগ বা পদায়ন বিষয়ে কোনো নির্দেশনা পাননি।  সরেজমিনে দেখা গেছে, ওই বিভাগে শারীরিক পরীক্ষার জন্য পৃথক কক্ষ নেই। চিকিৎসকদের বসার কক্ষের সামনের বারান্দায় একটি টেবিল রাখা। পুরুষ চিকিৎসক পুরুষ ওয়ার্ডবয়ের সহযোগিতায় সেই টেবিলের ওপর ধর্ষণের শিকার নারীকে রেখে তাঁর পরিধেয় কাপড় খুলে শারীরিক পরীক্ষা করেন। ওই একই টেবিলে এবং একইভাবে পরীক্ষা করে বয়স নির্ধারণ করা হয় নারী-শিশু সবার। আর এভাবে পরীক্ষার মুখোমুখি হয়ে আঁতকে ওঠেন সবাই। পরীক্ষার আতঙ্কে অনেকে অন্যায়ের প্রতিকার চাওয়া থেকে বিরত থাকেন।
 
সম্প্রতি ময়মনসিংহের এক পোশাকশ্রমিক ধর্ষণের মামলা করেন। এ আয়োজন দেখে পরীক্ষা না করেই ফিরে যান তিনি।  সবুজবাগ থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক বিকাশ কুমার ঘোষ আদালতের নির্দেশে বয়স নির্ধারণের জন্য একটি মেয়েকে ফরেনসিক বিভাগে আনেন। খোলা বারান্দার টেবিলের ওপর পুরুষ ওয়ার্ডবয় কাপড় খুলতে শুরু করলেই চিৎকার করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মেয়েটি। জ্ঞান ফেরার পর বয়স নির্ধারণে আর রাজি হননি তিনি।  এই প্রতিবেদককে মেয়েটি বলেন, তাঁর বয়স ১৯ বছর দুই মাস। এইচএসসি পাস করলেও সনদে তাঁর বয়স কম দেওয়া হয়। সনদে তাঁর বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়নি। নিজের ইচ্ছায় বিয়ে করায় মেয়েটির বাবা মামলা করেছেন তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। আদালতে হাজির হয়ে নিজের ইচ্ছায় বিয়ের কথা স্বীকার করেন মেয়েটি। কিন্তু সনদ অনুযায়ী বয়স কম হওয়ায় তাঁকে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠিয়ে দেন আদালত। মেয়েটি নিজেই আদালতের কাছে ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে তাঁর বয়স নির্ধারণের আবেদন জানান। আদালত বয়স নির্ধারণের জন্য সবুজবাগ থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন।
 
ডিএমসিতে প্রতিদিন ধর্ষণ ও বয়স নির্ধারণের এক-দুটি ঘটনা আসে। পরীক্ষা না করেই এঁদের কেউ কেউ ফিরে যান। অন্যদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, টাকা দিতে রাজি হলে হাসপাতালের অন্য বিভাগ থেকে নারী চিকিৎসক এনে পরীক্ষা করানো হয়। টাকা বেশি দিলে ওই দিনই পরীক্ষা সনদও পাওয়া যায়। এসব ক্ষেত্রে পাঁচ হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয় অভিভাবকদের কাছ থেকে। টাকা খরচ না করলে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হয় ধর্ষণ কিংবা বয়স নির্ধারণের প্রতিবেদনের জন্য।
 
বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ডিএমসিতে প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো ধর্ষণের শিকার নারীকে নিয়ে যেতে হয় পরীক্ষা করানোর জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানোর পরও ফরেনসিক বিভাগে নারী চিকিৎসক বা নার্স পদায়ন করা হয়নি। এটা দুঃখজনক।  স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব এম এম নিয়াজউদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, বিষয়টি তিনি প্রথম শুনলেন। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত নারী চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে।




 উৎসঃ দৈনিক প্রথম আলো

 
Our Another Site : Right Way BD | Right Way BD FB Group | Right Way BD FB Page |