Assertion For Justice, Equality And Freedom.

Monday, August 25, 2014

নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস পালিত

চট্টগ্রামে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে জাতীয় নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল সমাবেশ, আলোচনা সভা ও মিছিল। নারী যোগাযোগ কেন্দ্র ও উৎস যৌথভাবে গতকাল রোববার এসব কর্মসূচির আয়োজন করে। চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নারীরা ঘরে-বাইরে ভিন্ন মাত্রায় ভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছে। নারীর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতনের এই মাত্রা এখনো কমেনি; বরং অনেক ক্ষেত্রে বেড়েছে। এই নির্যাতন ও সহিংসতা বন্ধে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।  অনুষ্ঠানে বক্তারা নারী নির্যাতন ও সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ এবং দোষী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শিক্ষাবিদ রওশন আক্তার হানিফ, জাতীয় মহিলা পরিষদের সভাপ্রধান লতিফা কবির, নারী ও শিশু অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের সহকারী উপপরিচালক হোসনে আরা, এস আর কল্যাণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান জেলি চৌধুরী, উৎসের নির্বাহী সদস্য আহমদ কবির প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর আরজু শাহাবুদ্দিন।


আলোচনা সভা শেষে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।  এর আগে গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় নগরের ডিসি হিল থেকে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ রওশন আক্তার হানিফ। শোভাযাত্রাটি নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে এসে শেষ হয়।



তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো, বাংলাদশ।

Sunday, March 23, 2014

জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বড় বাধা কিশোরী মায়েরা

কিশোরী মায়েরা জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোট প্রজনন হার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সার্বিক সাফল্য আছে। কিন্তু কিশোরী মায়েদের ক্ষেত্রে প্রজনন হার কমছে না। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনসংখ্যার চাপ কমাতে হলে বাল্যবিবাহ কমাতে হবে। জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বলছে, বিশ্বে বাল্যবিবাহের হার সবচেয়ে বেশি বাংলাদেশে। বাংলাদেশ এ সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বাল্যবিবাহ কমাতে একাধিক মন্ত্রণালয় কাজ করলেও বিক্ষিপ্ত সেই সব কাজ সমস্যার তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাল্যবিবাহকে জনসংখ্যার সমস্যা হিসেবে দেখে এর বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
 
সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশের জনসংখ্যা ১৫ কোটি ৭০ লাখ। নগররাষ্ট্র বাদ দিলে বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজার ১৫ জন মানুষ বাস করে। বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১ দশমিক ৩৭ শতাংশ। অনেকে মনে করেন, সম্পদের তুলনায় অধিক জনসংখ্যা বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে বড় বাধা।
 
পরিস্থিতি: বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে বাংলাদেশে ৬৪ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়। গ্রামে এই হার ৭১ এবং শহরে ৫৪ শতাংশ। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআরবি) ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের জাতীয় জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ‘চাইল্ড ম্যারেজ ইন বাংলাদেশ’ শিরোনামে এ বছর প্রকাশিত ওই জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিক্ষার সঙ্গে বাল্যবিবাহের সম্পর্ক আছে। ১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে হওয়া নারীদের ৮৬ শতাংশ নিরক্ষর। দুই দশক ধরে অবস্থা প্রায় একই রকম আছে। জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের (নিপোর্ট) জ্যেষ্ঠ গবেষক সুব্রত ভদ্র বলেন, ১৯৯৩ সালে দেশে নারীদের বিয়ের গড় বয়স ছিল ১৫ দশমিক ৩ বছর। আর ২০১১ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৬ দশমিক ৬ বছরে। তিনি বলেন, ‘দুই দশকে বিয়ের বয়স বেড়েছে মাত্র এক বছর চার মাস। অর্থাৎ অগ্রগতি সামান্যই।’

কিশোরী মায়ের প্রজনন হার কমছে না: ‘চাইল্ড ম্যারেজ ইন বাংলাদেশ’ গবেষণার সহগবেষক এবং আইসিডিডিআরবির জনসংখ্যা, নগরায়ণ ও জলবায়ু পরিবর্তন কেন্দ্রের সহযোগী বিজ্ঞানী কামরুন নাহার প্রথম আলোকে বলেন, আগে বিয়ে মানেই আগে গর্ভধারণ ও শিশুর জন্মদান। তিনি বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, কিশোরী মায়েরা দ্বিতীয় সন্তানও আগে আগে নেয়। এদের মধ্যে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার ছেড়ে দেওয়ার হারও বেশি। মোট শিশু জন্ম দেওয়ার ক্ষেত্রে কিশোরী মায়েদের অংশটি বাড়ছে। ১৯৯৩ সালে জন্ম নেওয়া ৩২ লাখ ৭৮ হাজার শিশুর মধ্যে কিশোরী মায়েরা জন্ম দিয়েছিল ২৬ শতাংশ। ২০১১ সালে জন্ম নেওয়া ৩২ লাখ ৬২ হাজার শিশুর মধ্যে কিশোরী মায়েরা জন্ম দেয় ২৯ শতাংশ। 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ জনসংখ্যার ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জন করেছে মূলত মোট প্রজনন হার (টোটাল ফার্টিলিটি রেট—টিএফআর) কমানোর মাধ্যমে। বাংলাদেশ জনমিতি ও স্বাস্থ্য জরিপ বলছে, স্বাধীনতার পরপর দেশে টিএফআর ছিল ৬ দশমিক ৩। অর্থাৎ একজন মা গড়ে ছয়টির বেশি শিশুর জন্ম দিতেন। ১৯৯৩ সালে টিএফআর কমে দাঁড়ায় ৩ দশমিক ৪। ২০১১ সালে হয় ২ দশমিক ৩। গত দুই দশকে প্রজননক্ষম নারীদের মধ্যে টিএফআর কমেছে ৩২ শতাংশ। কিন্তু বয়সভিত্তিক শ্রেণী বিভাজনে দেখা যায়, ১৫-১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে কমেছে মাত্র ১৬ শতাংশ। আর ২০-২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ২২ শতাংশ কমেছে। ৩৫-৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কমেছে, ৬৩ শতাংশ। ২৫-২৯ বছর ও ৩০-৩৪ বছর বয়স শ্রেণীতে কমেছে যথাক্রমে ৩২ ও ৪৭ শতাংশ।

কাজ কী হচ্ছে: বাল্যবিবাহ কমানো বা বন্ধের ব্যাপারে জাতীয়ভিত্তিক প্রচার-প্রচারণা নেই। তবে একাধিক মন্ত্রণালয় এ নিয়ে কাজ করছে। জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএস) গণেশ চন্দ্র সরকার বলেন, ২৪২টি উপজেলায় একটি করে স্কুলের নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্রীদের সচেতন করার কাজ তাঁরা শিগগিরই শুরু করবেন। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব তারিক-উল-ইসলাম জানান, দেশের ৪০০ উপজেলায় ৪০০ কিশোর-কিশোরী ক্লাব আছে। এ ছাড়া অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে সারা দেশে আরও তিন হাজার এ রকম ক্লাব আছে। এসব ক্লাবে বাল্যবিবাহের খারাপ দিক নিয়ে কিশোর-কিশোরীদের সচেতন করা হয়। এ ছাড়া স্কুল বা কলেজ থেকে ঝরে পড়া প্রায় ১০ হাজার কিশোরীকে বৃত্তিমূলক কাজের জন্য আর্থিক সহায়তা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ বাল্যবিবাহ কমাতে সহায়তা করছে।

বাংলাদেশে কিশোরীর সংখ্যা দেড় কোটির মতো। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান পপুলেশন কাউন্সিলের এদেশীয় পরিচালক ওবায়দুর রব বলেন, সমস্যার তুলনায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ অপ্রতুল। তিনি বলেন, মেয়েদের কলেজে পড়ার হার বাড়লে বাল্যবিবাহ কমবে। দেখা গেছে, মেয়েরা শিক্ষিত হলে দেরিতে বিয়ে হয়। এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আওতায় জাতীয়ভিত্তিক প্রচার দরকার।





তথ্যসুত্রঃ প্রথম আলো, বাংলাদেশ।

৬৬ শতাংশ কিশোরী বাল্যবিবাহের শিকার

বাংলাদেশে ৬৬ শতাংশ কিশোরীর বিয়ে হয় বয়স ১৮ হওয়ার আগেই। আর ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী কিশোরীদের মৃত্যুর প্রধান কারণ গর্ভধারণজনিত জটিলতা। দেশে ৭০ শতাংশ প্রসব হয় বাড়িতে। অন্যান্য প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার মতো কিশোরী মায়েরাও সন্তান জন্ম দেন দক্ষ ধাই বা স্বাস্থ্যকর্মীর সহায়তা ছাড়াই। মা হওয়ার পর কিশোরী তাঁর জীবনীশক্তি হারান, তাঁর শিক্ষাজীবন সংক্ষিপ্ত হয়। তাঁকে ফিস্টুলার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। বর্তমানে দেশে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী এক কোটি ৬০ লাখ কিশোরী প্রতিবছর সন্তান জন্ম দিচ্ছেন।

Tuesday, March 4, 2014

১১ নভেম্বর ’যৌতুকবিরোধী দিবস’ কেন নয়?

বিয়ের আসরে, কনে বিদায় কালে বরপক্ষের যৌতুক চেয়ে বসার দৃশ্য এক সময়ের বাংলা সিনেমায় হরেদরে দেখা যেত। কনের পরিবার টিভি, রেডিও, সাইকেল, মোটরসাইকেল, হাতঘড়ির সাথে নগদ টাকা না দিতে পারলে বরপক্ষ বিয়ের আসর ছেড়ে চলে যাওয়ার ধমক দিত। কনে তুলে নেয়ার পরও অর্থ দাবির পুন: পুন: বায়নাক্কা চলতই। টাকা জোগাড়ে কনে পরিবার ব্যর্থ হলে কনের জীবনে নেমে আসতো বিভীষিকা।


 
দেশে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, নারীরা শিক্ষিত-সাবলম্বী হচ্ছে, সমাজের মানুষ নানা দিক দিয়ে সচেতন হচ্ছে, মুক্তচিন্তার প্রসার ঘটছে। এর ফলে অতীতের মত বরপক্ষ এখন আর খোলাখুলি যৌতুক চান না বিয়ের আসরে। বরং আজকাল ভিন্ন ঘটনা চোখে পড়ে। মেয়ের বিয়েতে সাগ্রহেই বরের জন্য ’এপার্টমেন্ট’ লিখে দেন কন্যাস্নেহে কাতর ধনাঢ্য পিতা।বোঝাই যায়, পরিস্থিতি পাল্টেছে, আগের মত মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুকের সাইকেল কেনার সামান্য ক’টা টাকা জোগাড় করতে নাকেমুখে জল উঠে যায় না হালের কোন কোন পিতার। তারপরও বাস্তবতা হলো, সমাজে সব পরিবারের সামর্থ হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের মতই অসমান। তারচেয়েও বড় কথা হলো বিয়েতে যৌতুক লেন এবং দেন অনৈতিক ও আইনগত দিক দিয়ে অবৈধ।

সামাজিক কাঠামো ধরে রাখার প্রয়োজনে সভ্য সমাজে বিয়ে একটি স্বত:সিদ্ধ প্রথা। নারী ও পুরুষ একে অপরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হলেও পুরুষ মূলত বিয়ে ’করে’, আর নারীর বিয়ে ’হয়’ – আমাদের সামাজিক ধ্যান ধারনা এমনটাই। তবে যেহেতু আমরা শব্দ সচেতন হয়ে উঠছি ক্রমেই, তাই মানসিকতার বদল না হলেও, হালে অমন করে বলতে শোনা যায় না। বিয়ে সংক্রান্ত প্রচলিত এই আলাপ থেকে নারী ও পুরুষের সামাজিক অবস্থান মেপে নেয়া যায়। সামাজিক অবকাঠামোতে নারী ও পুরুষের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গীগত বৈষম্য তা পূর্বে যতটা প্রকটভাবে ধরা পড়ত, আজকাল সেখানে কৌশলী খেলাধূলা চলে। দৃশ্যত হালের নারী সমাজ অনেক এগিয়েছে মনে হলেও কার্যত নারী নিপীড়ন পরিস্থিতির ক্রমাবনতিই নজরে আসে।

এডিস সন্ত্রাস, ধর্ষণ, উত্যক্তকরণ, অপহরণ, শারীরিক অত্যাচার – নারী নিপীড়ন ধরণেরই লম্বা ফর্দ দেয়া যাবে। দু:খজনক হলো, শহর কিংবা গ্রামে কেবল দুর্বৃত্তদের দ্বারাই নয়, অসংখ্য বিবাহিত নারীর জীবন শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বিষহ হয়ে উঠতে পারে তারই স্বামী ও স্বামীর পরিবারের দ্বারা। হরহামেশাই সংবাদে পাওয়া যায়, নারী তার স্বামী ও স্বামীর পরিবার কর্তৃক পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে মারা যাচ্ছে, হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে গোঙ্গাচ্ছে কিংবা কোন প্রতিকার খুঁজে না পেয়ে শেষমেষ আত্মহত্যা করছে।

সমাজ যেহেতু অবস্থানগত দিক দিয়ে নারীকে দুর্বল স্থানে বসিয়ে রাখে, তাই অন্যায়ের প্রতিবাদে ভুক্তভোগী নারীর প্রতিবাদের সুযোগ কম। বস্তুত আমাদের সমাজ ব্যবস্থা নারীর প্রতিবাদকে ’ন্যায্য’ মানতেও ইচ্ছুক নয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সমাজের চোখ রাঙানির ভয়ে নারীর নিজের পরিবারও তার পাশে দাঁড়ায় না। তাই নারীকে অনিচ্ছায়, পারিবারিক ও সামাজিক চাপের মুখে ’সো কল্ড’ সামাজিক (অপ)ব্যবস্থার সাথে নিদারুণ ’কমপ্রোমাইজ’ করতেই হয়। সমাজে গৎবাঁধা চর্চা এমনি। ব্যতিক্রম চোখে পড়ে কম। তাই যখন ব্যতিক্রম ঘটে তখন তা দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে, অনুসরণযোগ্য হয়ে ওঠে। ঠিক যেমনটা হয়ে উঠেছে ফারজানা। ফারজানা এখন যৌতুকবিরোধী প্রতিবাদের ’আইকন’ হিসেবে পরিচিত।

আসলে সমাজকে মাঝে মাঝে ভীষণ জোরে ঝাঁকি দিতে হয়। পদ্মরাগ উপন্যাসের নায়িকা জয়নাব বলেছিল, ‘আমি সমাজকে দেখাতে চাই একমাত্র বিবাহিত জীবনই নারী জন্মের চরম লক্ষ্য নহে। সংসার ধর্মই জীবনের সারমর্ম নহে।’ জয়নাবের মত করে সমাজকে ঝাঁকি দিতে পারে এমন কারো দেখা মেলে দৈবাৎ! যে বেগম রোকেয়ার নাম নিতে আমরা শ্রদ্ধাবনত হই তার বাণী ঠোঁটস্থ করলেও আত্মস্থ করতে পেরেছি ক’জন? মহীয়সী বেগম রোকেয়া বলেছিলেন, ‘…বর দুর্লভ হইয়াছে বলিয়া কন্যাদায়ে কাঁদিয়া মরি কেন? কন্যাগুলিকে সুশিক্ষিত করিয়া কার্যক্ষেত্রেও ছাড়িয়া দাও, নিজের অন্ন-বস্ত্র নিজে উপার্জন করুক।’ সামগ্রিক বিষয় তো নারীর স্বাবলম্বী হয়ে বেড়ে ওঠার, গড়ে ওঠার। নয়তো কেবল ’সিদ্ধান্তহীনতার’ কারণেও নারীকে সামাজিক ও পারিবারিক প্রকোষ্ঠে ধুঁকে ধুঁকে ভুগতে হয়। স্বামী সাঈদ সম্পর্কে সময়মত ‘সিদ্ধান্ত’ নিতে পারেন নি বলে সাঈদের চুড়ান্ত বিভৎসতার মুখে পরে দৃষ্টি হারাতে হলো রুমানাকে। ফারজানাকে সাধুবাদ, তিনি এমন কোন দ্বান্দিকতার ফাঁদে পা দেন নি। হীরন ও তার ফুপুর যৌতুক বাঞ্ছার যথার্থ জবাব দিয়ে তিনি গোটা সমাজকে সজোরে ঝাঁকি দিতে পেরেছেন যথাসময়েই।

রুমানা মঞ্জুরের ঘটনায় কেউ কেউ নিরপেক্ষতার ভেক ধরে বলেছিলেন উভয় পক্ষের (সাঈদেরও) বক্তব্য শোনা প্রয়োজন। এদের মূল সুড়সুড়ি হলো, নিশ্চয়ই নারীটির কোন ’ঘটনা’ আছে! এবারও একইভাবে অনেকে ছুটে এসেছেন নারীর চরিত্র হননে। ‘তালাকপ্রাপ্ত হীরন’ নিজেই ফারজানার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনায় ভূমিকা রেখেছেন। যদিও সাংবাদিকদের জেরায় তিনি ’টেবিলের গ্লাস ছুঁয়ে’ কসম কেটে অনেক কথা নয়ছয় করে ফেলছেন, তবে তার নিজের বক্তব্যের ভারসাম্যহীনতাই তাকে দোষীর কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছে। কেবল যৌতুক চাওয়ার কারণেই নয়, ফারজানাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করতে ফেসবুকে ফারজানার ছবি ও ফোন নম্বর প্রকাশের মত ন্যাক্কারজনক আচরণটিকেও আইনের আওতায় এনে হীরনের বিচার হওয়া জরুরী।

এ কথা সত্য, ফারজানার জন্য আগামির সময়গুলো হবে চ্যালেঞ্জিং। সমাজ তার সাথে দু’তরফা আচরণ করবে। এক পক্ষে স্বাগত বচনের কমতি থাকবে না আক্ষরিক অর্থেই, বিপরীতে অন্য পক্ষের নানা আপত্তিকর কথার মধ্য দিয়ে চলতে হবে ফারজানাকে। ফারজানার প্রত্যয়ী কণ্ঠ অবশ্য বলে, তিনি বিচলিত হবার নন। কিন্তু লড়াইটা ফারজানার একার থাকবে কেন? আবু সুফিয়ান ব্লগে (http://blog.bdnews24.com/abusufianIR/49934) লিখেছেন, ফারজানার কথা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হোক। যথার্থ প্রস্তাবনা। বিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে যৌতুকবিরোধী আলোচনা যুক্ত করা হোক অচিরেই। শিশু বয়স থেকে জেনে-বুঝে যৌতুক প্রথাকে ঘৃণা করতে শিখুক আগামির প্রজন্ম। যৌতুকবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাবে যৌতুকবিরোধী ব্যানার হাতে দাঁড়াক স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামির প্রজন্ম যৌতুকপ্রথা বিলুপ্ত সমাজে বাস করবে, এ নিশ্চয়তার বীজ প্রোথিত হোক এখনই।

পত্রিকা ঘেঁটে হালের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালে যৌতুকের শিকার হয়েছে ২৮৫ জন, যৌতুকের কারণে স্বামীর হাতে খুন হয়েছে ১৯৪ জন। মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পরিসংখ্যান বলছে, ২০১০ সালে যৌতুকের কারণে আত্মহত্যা করে ২২ জন নারী। যৌতুকে অস্বীকৃতি জানানো নারীর নাগরিক অধিকার। আশ্চর্যজনক হলো, যৌতুকপ্রথার প্রচলন, চর্চা এবং কুফল বহুকালের পুরনো হলেও নারীর এ নাগরিক সমস্যাকে বিশেষভাবে চিহ্নিত করতে যৌতুকপ্রথা বিরোধী কোন দিবস নেই! যৌতুক বিরোধিতা করে ফারজানার এ প্রতিবাদকে স্বীকৃতি, সন্মান ও সমর্থন জানিয়ে ও যৌতুকবিরোধী ক্যাম্পেইনকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিতে আমাদের ’যৌতুকবিরোধী দিবস’ পালনের পদক্ষেপ নেয়ার সময় এখনি।

যৌতুকের প্রতিবাদে ফারজানা যেদিন হীরনকে তালাক দেয়, সেদিন ছিল ১১.১১.১১। সংখ্যার বিশেষ বিন্যাসের কারণে এই তারিখটি বিশ্বজুড়ে নানাভাবে পালিত হয়েছে। সবার উৎসাহ ছিল, দিনটিকে কতটা অভিনবভাবে স্মরণীয় করে তোলা যায়। দ্ব্যার্থহীনভাবে বলা যায়, ফারজানার মত এ দিনটিকে এমন বিশেষত্ব দিতে পারে নি আর কেউ। বিশ্ব ১১.১১.১১’র গল্পকে ধারণ করতে চেয়েছিল আগামির জন্য। সাহসী ফারজানার প্রতিবাদী গল্পটা ’১১ নভেম্বর’ -এর প্রতীক হয়ে উঠুক, কেবল দেশে নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। প্রতি বছর ‘১১ নভেম্বর’ পালিত হোক ’যৌতুকবিরোধী দিবস’।



আইরিন সুলতানা,  ব্লগার।
Source: bdnews24.com

Wednesday, February 12, 2014

Progress of Women access in labour in Bangladesh after Independence



As Bangladesh turns 42, improvements in women’s wellbeing and increased agency are claimed to be some of the most significant gains in the post-independence era. Various economic and social development indicators show that in the last 20 years, Bangladesh, a poor, Muslim-majority country in the classic patriarchal belt, has made substantial progress in increasing women’s access to education and healthcare (including increasing lifeexpectancy), and in improving women’s participation in the labour force. The actors implementing such programmes and policies and claiming to promote women’s empowerment are numerous, and they occupy a significant position within national political traditions and development discourses.


The status of women in Bangladesh is defined by an ongoing gender equality struggle, prevalent political tides that favour restrictive Islamic patriarchal models, and woman's rights activism. The Bangladeshi women have made massive gains since the country gained its independence in 1971. The past four decades have seen increased political empowerment for women, better job prospects, improved education and the adoption of new laws to protect their rights.

 Available data on health, nutrition, education, and economic performance indicated that in the 1980s the status of women in Bangladesh remained considerably inferior to that of men. Women, in custom and practice, remained subordinate to men in almost all aspects of their lives; greater autonomy was the privilege of the rich or the necessity of the very poor. 

The economic contribution of women was substantial but largely unacknowledged. Women in rural areas were responsible for most of the post-harvest work, which was done in the chula, and for keeping livestock, poultry, and small gardens. Women in cities relied on domestic and traditional jobs, but in the 1980s they increasingly worked in manufacturing jobs, especially in the readymade garment industry. Those with more education worked in government, health care, and teaching, but their numbers remained very small. Continuing high rates of population growth and the declining availability of work based in the chula meant that more women sought employment outside the home. Accordingly, the female labor force participation rate doubled between 1974 and 1984, when it reached nearly 8 percent. Female wage rates in the 1980s were low, typically ranging between 20 and 30 percent of male wage rates.





Wednesday, July 3, 2013

Jamdani, Cotton of Bengali Origin



Jamdani is the big part of our rich heritage.It is a fabric of fine cotton of Bengali origin,with coloured stripes and patterns.It has been spoken of as the most artistic textile of the Bangladeshi weaver.

 
Traditionally woven around Dhaka and created on the loom brocade,it is also fabulously rich in motif.A Bengali woman's wardrobe is simply incomplete without this elegant piece.
Though mostly used for saris and it is also used for Kameez,and scarves.Jamdani is believed to be a fusion of the ancient cloth making techniques of Bengal(perhaps 2,000 years old).

Because of its complicated designs,it always considered as the most expensive productions of Dhaka looms. There are many branded shops which are producing jamdani and the first name that comes on mind is AARONG.

Wednesday, February 13, 2013

FALGUN GREETINGS to Everybody From - WERBD

 






--- Maksuda

Tuesday, February 12, 2013

‘Rituraj Bashonto’

Bangladesh is a country of colourful fairs and festivals. In our Bangladesh the Spring season begins after the end of Winter & stays for two months [Falgun and Chaitra]. A colorful festival is held to welcome Bashanto. Attired in reddish-yellow saris with red border and hairs decorated with flowers, young women and girls as well as young men and boys in traditional pajama and punjabi, carrying flowers, took part in the colorful march. A good number of kids also got their attractive faces painted with different motifs including birds, national flag, butterflies etc. Pahela Falgun is celebrated on February 13. It is called the ‘Rituraj Bashonto’.

 
Our Another Site : Right Way BD | Right Way BD FB Group | Right Way BD FB Page |